কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে? এলার্জি জাতীয় খাবারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও প্রতিকার
Lifestyle Jan 18, 2026 108

কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে? এলার্জি জাতীয় খাবারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও প্রতিকার

Share this article

খাদ্য আমাদের শরীরের জ্বালানি, কিন্তু মাঝে মাঝে এই খাবারই আমাদের শরীরের জন্য শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। আপনি কি কখনও খেয়াল করেছেন যে নির্দিষ্ট কোনো খাবার খাওয়ার পর আপনার শরীরে চুলকানি, লাল চাকা হওয়া বা পেটে অস্বস্তি শুরু হচ্ছে? যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে আপনি সম্ভবত ফুড এলার্জি (Food Allergy) বা খাদ্যজনিত এলার্জিতে ভুগছেন।

বাংলাদেশে এলার্জি একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এদেশের মানুষের একটি বড় অংশই জানেন না ঠিক কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে। আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে এলার্জি জাতীয় খাবারের তালিকা এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

এলার্জি আসলে কী? কেন এটি হয়?

সহজ কথায় বলতে গেলে, আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম যখন কোনো খাবারের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনকে ভুলবশত ক্ষতিকারক মনে করে আক্রমণ করে, তখনই এলার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দেয়। এই সময় শরীর ইমিউনোগ্লোবুলিন ই (IgE) নামক অ্যান্টিবডি এবং হিস্টামিন নিঃসরণ করে, যার ফলে চুলকানি, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

বিস্তারিত এলার্জি জাতীয় খাবারের তালিকা

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭০টিরও বেশি খাবারে এলার্জি হওয়ার রেকর্ড থাকলেও, নিচের খাবারগুলো বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে:

 ১. সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছ (Sea Fish & Shellfish)

মাছ বাঙালির প্রধান খাদ্য হলেও, চিংড়ি এবং সামুদ্রিক মাছ এলার্জির প্রধান উৎস।

চিংড়ি মাছ: এতে ট্রপোমায়োসিন নামক প্রোটিন থাকে যা তীব্র এলার্জি তৈরি করে।

ইলিশ মাছ: অনেকে ইলিশ মাছ সহ্য করতে পারেন না, কারণ এতে উচ্চমাত্রার হিস্টামিন থাকে।

কাঁকড়া ও অন্যান্য শেলফিশ: সামুদ্রিক কাঁকড়া বা শামুক জাতীয় খাবারে অনেকের তীব্র রিয়্যাকশন হয়।

২. লাল মাংস (Red Meat)

গরুর মাংস ও খাসির মাংস বাংলাদেশের অনেক মানুষের জন্য এলার্জির কারণ। বিশেষ করে গরুর মাংসে থাকা নির্দিষ্ট কিছু চর্বি বা প্রোটিন অনেকের শরীরে সহ্য হয় না।

৩. নির্দিষ্ট কিছু সবজি

সবজি মানেই নিরাপদ নয়। কিছু সাধারণ সবজিতেও এলার্জি হতে পারে:

বেগুন: বেগুনে প্রচুর পরিমাণে হিস্টামিন থাকে, যা খাওয়ার সাথে সাথেই অনেকের শরীরে চুলকানি শুরু হয়।

পুঁইশাক ও মিষ্টি কুমড়া: কারো কারো ক্ষেত্রে এই সবজিগুলো খাওয়ার পর ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

৪. ডিম (Eggs)

ডিমের এলার্জি বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোটিনের কারণে এই সমস্যা হয়। তবে সুখবর হলো, অনেক শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে এই এলার্জি কাটিয়ে ওঠে।

৫. বাদাম (Nuts & Peanuts)

বাদামের এলার্জি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চিনাবাদাম: এটি অনেকের জন্য জীবননাশের কারণ হতে পারে (Anaphylaxis)।

ট্রি নাটস: কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা আখরোটেও অনেকের তীব্র এলার্জি থাকে।

৬. দুগ্ধজাত খাবার (Milk & Dairy)

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স এবং দুধের এলার্জি দুটি ভিন্ন বিষয়। গরুর দুধের প্রোটিন (Casein/Whey) থেকে যে রিয়্যাকশন হয়, তাকেই দুধের এলার্জি বলা হয়।

৭. সয়া ও গ্লুটেন (Soy & Wheat)

সোয়াবিন থেকে তৈরি খাবার বা সয়া সস অনেকের সহ্য হয় না।

গমে থাকা গ্লুটেন নামক প্রোটিন অনেকের পেটের সমস্যা এবং ত্বকের এলার্জি তৈরি করে।

এলার্জির প্রধান উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ

খাবার খাওয়ার কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:

ত্বকে লাল চাকা হওয়া বা আমবাত (Hives)।

ঠোঁট, মুখ, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া।

পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব বা পাতলা পায়খানা।

অবিরাম হাঁচি বা নাক দিয়ে পানি পড়া।

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা মাথা ঘোরা।

এলার্জি টেস্ট ও রোগ নির্ণয়

আপনি যদি বুঝতে না পারেন কোন খাবারে আপনার সমস্যা হচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:

Skin Prick Test: আপনার ত্বকে সামান্য পরিমাণ অ্যালার্জেন ইনজেক্ট করে দেখা হয় কোনো রিয়্যাকশন হয় কি না।

Specific IgE Blood Test: রক্তের নমুনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি আপনার ইমিউন সিস্টেমের সংবেদনশীলতা মাপা হয়।

Food Challenge Test: ডাক্তারের উপস্থিতিতে অল্প পরিমাণ খাবার খেয়ে দেখা হয়। (এটি ঘরে বসে করা অত্যন্ত বিপজ্জনক)।

Best Skin doctor in Dhaka: Top 12 Dermatologists

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও বুকিং

এলার্জি কেবল একটি অস্বস্তি নয়, সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে এলার্জিজনিত সমস্যায় ভোগেন, তবে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অনলাইনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন

আপনার নিকটস্থ অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন।

কেন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?

সঠিক এলার্জি টেস্টের মাধ্যমে এলার্জির উৎস নিশ্চিত হওয়া।

দীর্ঘমেয়াদী ইমিউনোথেরাপি বা চিকিৎসার পরিকল্পনা করা।

জরুরি অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে সঠিক গাইডলাইন পাওয়া।

এখানে ক্লিক করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বুক করুন

"সরাসরি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট অথবা কল করুন ০১৩৩৩-৩৯০৫৯৭ এই নম্বরে।"

এলার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকর উপায়

ফুড ডায়েরি রাখা: প্রতিদিন কী খাচ্ছেন এবং কখন সমস্যা হচ্ছে তা লিখে রাখুন। এতে আপনার শত্রু খাবারটি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

লেবেল পড়ার অভ্যাস: সুপারশপ থেকে প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় তাতে দুধ, বাদাম বা গমের উপস্থিতি আছে কি না দেখে নিন।

ক্রস-কন্টামিনেশন এড়িয়ে চলা: রেস্টুরেন্টে খাওয়ার সময় বাবুর্চিকে আপনার এলার্জির কথা জানান, যাতে আপনার খাবার অন্য এলার্জি জাতীয় খাবারের সাথে মিশে না যায়।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর থেকে হিস্টামিন বের করে দিতে প্রচুর পানি পান করুন।

ঘরোয়া প্রতিকার: সামান্য চুলকানিতে নিম পাতার রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. এলার্জি কি চিরতরে ভালো হয়? উত্তর: সব এলার্জি পুরোপুরি সারে না, তবে নিয়মিত চিকিৎসা এবং সচেতনতার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের এলার্জি বড় হওয়ার সাথে সাথে চলে যায়।

২. বেগুন খেলে কি সবার এলার্জি হয়? উত্তর: না, বেগুন সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। যাদের শরীরে হিস্টামিন প্রসেসিং ক্ষমতা কম, কেবল তাদেরই বেগুনে সমস্যা হয়।

৩. এলার্জি হলে কি গরুর মাংস খাওয়া একেবারেই নিষেধ? উত্তর: যদি আপনার টেস্টে গরুর মাংসে এলার্জি ধরা পড়ে, তবে তা এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে সবার জন্য এটি নিষিদ্ধ নয়।

কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তা জানা সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ। সচেতনতাই পারে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে। আপনার যদি নিয়মিত এলার্জির সমস্যা থাকে, তবে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং নিজের জন্য একটি সঠিক ডায়েট চার্ট তৈরি করুন।

Table of Contents
Support

👋 Hi there! How can I help you today?